বেতন পাওয়ার প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরভাড়া, মেস বিল, মুদি দোকানের বকেয়া ও গ্রামে টাকা পাঠানোর পর অনেক কর্মীর পকেট শূন্য হয়ে যায়। মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবার ধার-দেনা করতে হয়। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ মাসিক বাজেট পরিকল্পনা।

১. ৫০ / ৩০ / ২০ বাজেট নিয়মের সহজ প্রয়োগ

সাধারণ কর্মীদের জন্য পুরো আয়কে তিনটি ভাগে ভাগ করে পরিচালনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়:

  1. ৫০% অপরিহার্য প্রয়োজন: বাসাভাড়া, মেস খাবার, বিদ্যুৎ বিল ও পানি বিল। এই খরচগুলো প্রতি মাসে নিশ্চিতভাবেই করতে হয়।
  2. ৩০% পরিবার ও ব্যক্তিগত ব্যয়: গ্রামে পিতা-মাতা বা সন্তানের জন্য টাকা পাঠানো, নিজের পোশাক, সাবান-তেল ও যাতায়াত খরচ।
  3. ২০% ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও জরুরি তহবিল: এই অংশটি বেতন পাওয়ার দিনই আলাদা করে রাখতে হবে। এটি কোনো অবস্থাতেই সাধারণ খরচে ব্যবহার করা যাবে না।

২. জরুরি তহবিল (Emergency Fund) কেন জরুরি?

হঠাৎ অসুস্থতা, কারখানার উৎপাদন সাময়িক বন্ধ হওয়া বা পরিবারের কারো জরুরি অপারেশনের মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য অন্তত ২-৩ মাসের মৌলিক খরচের সমান একটি জরুরি তহবিল থাকা দরকার। এটি থাকলে চড়া সুদে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয় না।

৩. সঞ্চয় করার কিছু বাস্তবসম্মত উপায়

  • ব্যাংক বা ডাকঘর ডিপিএস: প্রতি মাসে ৫০০ বা ১,০০০ টাকার একটি ছোট ডিপিএস (DPS) খুলুন। এতে মেয়াদ শেষে একটি বড় অঙ্কের অর্থ এককালীন পাওয়া যায়।
  • বিকাশ/নগদ সঞ্চয় স্কিম: বর্তমানে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে ঘরে বসেই অল্প টাকার মাসিক সঞ্চয় করা সম্ভব।
  • অতিরিক্ত ওটির টাকা সঞ্চয় করা: মূল বেতন দিয়ে সংসারের নিয়মিত খরচ চালান এবং অতিরিক্ত ওটি থেকে যে আয় হবে তার অর্ধেক সরাসরি সঞ্চয়ে রাখুন।

৪. খরচের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস

আমরা প্রতিদিন চা, নাশতা বা ছোটখাটো খাতে কত টাকা খরচ করি তার কোনো হিসাব রাখি না। কিন্তু দিন শেষে এগুলোই মাসের শেষে বড় ঘাটতি তৈরি করে। নিজের আয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সচেতনভাবে রাখার মাধ্যমেই আর্থিক স্বাধীনতা শুরু হয়।