বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সুপারিশক্রমে তৈরি পোশাক (RMG) খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়িত হয়েছে। নতুন কাঠামোতে মোট গ্রেড সংখ্যা পূর্বের ৭টি থেকে কমিয়ে ৪টিতে রূপান্তর করা হয়েছে এবং ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১. গ্রেড ৪ (প্রবেশ পর্যায় / সাধারণ কর্মী) এর বেতন বণ্টন
একজন সহকারী অপারেটর বা নতুন যোগদানকারী কর্মীর ন্যূনতম মাসিক মোট মজুরি ১২,৫০০ টাকা। এর বিভিন্ন খাতের সরকারি বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- মূল বেতন (Basic): ৬,৭০০ টাকা (মোট বেতনের ৫৩.৬%)
- বাড়ি ভাড়া (House Rent): ৩,৩৫০ টাকা (মূল বেতনের ৫০%)
- চিকিৎসা ভাতা (Medical): ৭৫০ টাকা
- যাতায়াত ভাতা (Transport): ৪৫০ টাকা
- খাদ্য ভাতা (Food Allowance): ১,২৫০ টাকা
সর্বমোট গ্রস মজুরি: ৬,৭০০ + ৩,৩৫০ + ৭৫০ + ৪৫০ + ১,২৫০ = ১২,৫০০ টাকা।
২. গ্রেডভিত্তিক কাঠামোর সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
| গ্রেড | পদবী / দায়িত্বের ধরন | ন্যূনতম মোট মজুরি (টাকা) |
|---|---|---|
| গ্রেড ৪ | সহকারী অপারেটর, হেল্পার ও সমমান | ১২,৫০০/- |
| গ্রেড ৩ | সাধারণ অপারেটর, সাধারণ সুইং/কাটিং কর্মী | ১৩,০২৫/- |
| গ্রেড ২ | সিনিয়র অপারেটর, দক্ষ কাটিং/ফিনিশিং কর্মী | ১৪,১৫০/- |
| গ্রেড ১ | প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি ও উচ্চ দক্ষ কর্মী | ১৫,০০০/- বা তদূর্ধ্ব |
৩. শিক্ষানবিশ (Apprentice) কর্মীদের নিয়ম
কোনো কর্মী যদি সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ হিসেবে কোনো কারখানায় প্রবেশ করেন, তবে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত তিনি শিক্ষানবিশ হিসেবে গণ্য হবেন। এই সময়ে তার মাসিক সর্বমোট ভাতা হবে ৯,৮৭৫ টাকা। ৩ মাস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেড ৪ কর্মী হিসেবে ১২,৫০০ টাকা স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
৪. বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট (Increment)
শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো কারখানায় এক বছর সন্তোষজনক চাকরি সম্পন্ন করার পর প্রত্যেক কর্মী তার মূল বেতনের ৫% হারে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার অধিকারী। এটি শ্রমিকের মূল বেতনের সাথে স্থায়ীভাবে যোগ হয়, যার ফলে তার ওভারটাইম রেটও বৃদ্ধি পায়।